দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম নেপাল পূর্বাভাস ১৪/০৬/২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৩০ ক্রিকেট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪: রান খরার মাঠে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা

রান খরার মাঠে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচটি আগামী ১০ জুন ২০২৪, বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় নিউ ইয়র্কের নাসাউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

ম্যাচ প্রেক্ষাপট

নাসাউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এখনও পর্যন্ত ৮ ইনিংসে কোনও দল ১৪০ রান স্পর্শ করতে পারেনি। এই মাঠে ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপও ১ ওভার বাকি থাকতেই ১১৯ রানে অল আউট হয়ে গেছে। এই কঠিন উইকেটে আনরিখ নরকিয়া ও তার দলের অন্যান্য বোলারদের মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশ দলের জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জের।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিসংখ্যান মোটেও সন্তোষজনক নয়। এখন পর্যন্ত ৮টি মুখোমুখি দেখায় পুরোপুরি হেরেছে বাংলাদেশ। জয়ের ধারেকাছেও আসতে পারেনি। তবে বড় মঞ্চের চাপে থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক সময় অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যায়, যেমন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গত দুই বিশ্বকাপে।

উইকেট ও পিচ রিপোর্ট

এই মাঠের উইকেট মূলত বোলারদের জন্য স্বর্গ বলা চলে। গতি ও সুইং থাকলে ব্যাটারদের জন্য কাজটি কঠিন হয়ে যায়। নাসাউ স্টেডিয়ামে অসমান বাউন্সও কাজে আসতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা ইতোমধ্যে এখানে দুই ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে, যা তাদের জন্য সুবিধার হবে।

বাংলাদেশদক্ষিণ আফ্রিকা
তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ নাইম, লিটন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসানকুইন্টন ডি কক, এইডেন মারক্রাম, রিজা হেনড্রিক্স, রাসি ভ্যান ডার ডুসেন, ডেভিড মিলার, হেনরিখ ক্লাসেন, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, ক্যাগিসো রাবাদা, আনরিখ নরকিয়া, তাবরাইস শামসি, কেশভ মহারাজ

বাংলাদেশের বর্তমান ব্যাটিং পরিসংখ্যান

বাংলাদেশের বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপের অবস্থা মোটেও ভালো নয়। দ্বীপীয় টিমদের বিপক্ষেও যথেষ্ট সংগ্রহ করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের গড় মাত্র ২০। অপ্রত্যাশিতভাবে তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা এই ম্যাচেও প্রভাব ফেলতে পারে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আনরিখ নরকিয়ার বিপক্ষে খেলে ৬ ওভার ৫ বলে মাত্র ১৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। তিনি প্রায় সব ম্যাচেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বিব্রত হতে বাধ্য করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান ফর্ম

দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক ফর্মও চাপে আছে। দলটির টপ অর্ডার এখন ফর্মের থেকে দূরে, বিশেষ করে ডি কক, মারক্রাম ও রিজা হেনড্রিক্সের ব্যাটে রান নেই। কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতা যেকোনো মুহুর্তে ফিরে আসতে পারে এবং খেলার চিত্র পাল্টে দিতে পারে।

ম্যাচ প্রেডিকশন: কে পাবে জয়?

সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশ দল ও দক্ষিণ আফ্রিকার দলের সর্বশেষ ফর্মের বিবেচনায়, আজকের ম্যাচটি কৌতূহল পূর্ণ হতে যাচ্ছে। উইকেট বোলারদের পক্ষে থাকায়, মধ্যম স্কোরিং ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। বাংলাদেশের বোলারদের কাছ থেকে একটি চমৎকার পারফরম্যান্স আসতে পারে, কিন্তু তাদের ব্যাটিং লাইনে যদি যথেষ্ট রান আসে তার উপর নির্ভর করবে তাদের জয়-পরাজয়ের ভাগ্য।

অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের অভিজ্ঞতা এই কঠিন পিচে হয়তো আবার বড় পারফরম্যান্স দিতে পারে। তাদের বোলিং আক্রমণও যথেষ্ট শক্তিশালী, যা বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারকে চাপে রাখতে পারে। বিশেষ করে, আনরিখ নরকিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের অতীত পারফরম্যান্স বিবেচনায় নরকিয়া ও তার দলের অন্যান্য বোলাররা বাঘা পারফরম্যান্স দেখাতে পারে।

ম্যাচটির নির্ধারনী মুহুর্ত হতে পারে নতুন বল খেলা। তাসকিন ও মুস্তাফিজের প্রথম চার ওভারে যদি তারা দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারে এবং সাউথ আফ্রিকার প্রথম ব্যাটসমানদের সাজঘরে পাঠাতে পারে, তবে ম্যাচটি বাংলাদেশের পক্ষে ঝুলে যেতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার দ্রুত ব্যাটিং লাইনআপ যদি সামাল দিতে পারে বাংলাদেশি পেসারদের, তবে তারা সহজেই রান নিতে সক্ষম হতে পারে।

নির্ধারণযোগ্য ফলাফলের জন্য, মাঠের পরিস্থিতি এবং দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বলা যায়, ম্যাচটি খুব কম স্কোরিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সঠিকভাবে বোলাররা তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারলে, যে দল ১৪০ রান করতে পারবে, তারাই জয়ী হবে। শেষ মুহূর্তে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করতে সক্ষম দলটিই ফাইনাল হাসি হাসবে।

আমার প্রেডিকশন অনুযায়ী:
অপেক্ষায় আছে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ। তবে ফর্ম ও অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাই জয়ের বেশি সম্ভাবনা বজায় রাখবে। তবে, যদি বাংলাদেশ তাদের বোলারদের উৎকৃষ্ট পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা আপসেট ঘটাতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।